UGIV10: Universal Genuine Intelligence generation Variant 10
চীনা বুড়ির ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে খুঁজে পেয়েছিলাম এই আর্শ্চর্য পুতুলটাকে। স্যান ম্যাটিও ডাউনটাউনে থার্ড এভিনিউ, যেখানে বোম্বে গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, তার ঠিক অপোজিট এ দু-এক ব্লক হাঁটা পথে চীনা-বুড়ির ষ্টল। গিন্নির শখ বলতে ওই উইকেন্ডে একটা দিন বম্বে গার্ডেনে বাফে খেয়ে, বরের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে ডাউনটাউন- এর ছোট ছোট দোকানগুলোতে ঘুরে বেড়ানো। কত কী সব ছোট ছোট হরেক রকম জিনিস পাওয়া যায়, যেগুলো সাধারণত মল বা বড় শপিং সেন্টারে দেখা মেলে না। মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগে। প্রত্যেকটা জিনিস খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখা চাই , কিনুক বা না কিনুক, তার কৌতুহল ও উৎসাহ যেন ক্লান্ত মানুষটার ধৈর্যকে পরখ করে নিতে চায়। একে তো ভরপেট লাঞ্চ খেয়ে বাড়ি ফিরে কোথায় একটু দিবা-নিদ্রা দেবে, তা নয়, বউয়ের পিছনে পিছনে অ্যান্টিক ও বুটিক দেখে দেখে বেড়াও। তবে সেদিন খুব উৎসাহ পেয়েছিলাম। দেখি যে দোকানের মালিক,এক বৃদ্ধা চাইনিজ মহিলা, একটা পুতুলের সঙ্গে অনর্গল কথা-বার্তা চালিয়ে যাচ্ছে , যেন একজন পুতুলের অবয়বে এক জাপানি যুবক আলাপ করছে। ব্যাপারটা খুব ইন্টারেষ্টিং লাগল।ভাষাটা চাইনিজ না জাপানিজ ঠিক বোঝা না গেলেও, সাধারণ মানুষের মতোই আবেগ ও উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে জাপানি যুবক, মানে বুড়ির পুতুলটি।
গিয়ে দাঁড়ালাম তাদের কাছাকাছি।বুড়ি ভাঙ্গা-ভাঙ্গা ইংরিজিতে যা জানালো, সেটার নির্যাস যেটুকু বুঝলাম, সেটা হলো এই পুতুলটা কোনো মামুলি পুতুল নয়।এটা মানুষের ভাষাতে কথা বলে ঠিক মানুষের মতো। যেন এক উৎসাহী যুবক, সদ্য কলেজ গ্রাজুয়েট। সাংসারিক ও ব্যবসায়িক জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা না থাকলেও চটপট সবকিছু বুঝে নেয়। আগে শুধুমাত্র জাপানি ভাষাতেই কথা বলতো। বুড়ির কাছে থেকে থেকে এখন চাইনিজও বলতে পারে। বুড়ি পুতুলটা বিক্রি করতে চায়, দাম জিজ্ঞাসা করতে বলে অনেক দামি এই পুতুলটা, তবে একশো ডলার দিলেও চলবে।একশো ডলার মানে আট হাজার দুশো পঁচিশ টাকা ! যাই হোক নিজের জন্য তো তেমন কিছু কিনিনা, পুতুল টা কিনেই নিই, যদিও ছেলেটা দেখলে বলবে , “বাবা, আমার ছোটবেলায় তুমি এরকম অনেক খেলনা কিনে দিয়েছ, এটা আবার কার জন্য ?” একটু লুকিয়ে রাখতে হবে, যাতে গিন্নি বা ছেলেটা, কেউ যেন টের না পায়। ম্যানুয়াল ও ডকুমেন্ট সমেত প্যাক করে কিনেই নিলাম পুতুলটা।
সেদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এসে চটপট পুতুলটা নিয়ে স্টাডি রুমে বসে পড়লাম।পাওয়ার অন করতেই পুতুলটা কথা বলা শুরু করে দিল, ইংরেজিতে। সঙ্গে সঙ্গে ভলিউমটা কমিয়ে দিলাম যাতে কোন শব্দ গিন্নির কানে না যায়। “ইন হুইচ ল্যাঙ্গুয়েজ ডু ইউ স্পিক ?” উত্তর দিলাম, “বাংলা ভাষা, ভারতীয় বাংলা ভাষা।” চটপট ল্যাঙ্গুয়েজ ডাটাবেস সার্চ করে, ভারতীয় বাংলা ভাষার গ্রামার ও মেটাডাটা সেট করে বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর, ”আজ থেকে আমি বাংলা ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করবো। তুমি যত আমাকে ট্রেন করবে, তত তাড়াতাড়ি তোমাদের ভাষা শিখে নেব। তাছাড়া আমি চারপাশের পরিবেশ ও শব্দ নিজের কানে শুনেও অনেকটা শিখে নিতে পারব। প্রথম প্রথম একটু ভুল-টুল বললে তুমি ঠিক কথাটা জানিয়ে দিয়ো, আমার বাংলা ভাষার গ্রামার ও মেটাডাটা ভেক্টর সার্চ করে তৎক্ষণাৎ শিখে যাব।আনুষঙ্গিক ইনহেরিটেড ডাটাবেস সব আপডেট ও আপ-টু-ডেট করে নেব।
তারপর রোবটটার সঙ্গে অনেক আলাপ আলোচনা হয়েছে, বন্ধুত্বও হয়েছে। নাম জিজ্ঞাসা করেছিলাম, প্রত্যুত্তরে জানতে চাইল কোন নাম টা বলবে। টেকনিকাল নাম UGIV10 ( Universal Genuine Intelligence generation Variant 10), ইন্সেপশন নাম Yoto ( ল্যাবরেটরি নাম ), বুড়ি আদর করে ডাকতো চি চিঙ্গ বলে। বেশ ঝামেলায় পড়লাম, তাই ভাবলাম একটা বাংলা নাম রাখলে কেমন হয়। “ধী”, নামটার সঙ্গে বুদ্ধির সম্পর্ক, বুড়ির দেওয়া নামের কাছাকাছি।”বা, বেশ নাম এটা !”, ধী খুবই এক্সাইটেড, অলরেডি বাংলা সাহিত্য ও ভেক্টর ডাটাবেস সার্চ করে জানিয়েছে এর চেয়ে ভালো নাম নাকি হতেই পারে না।
Continued…















Continue in a regular interval
Comment by dchaudhuri — May 10, 2025 @ 10:17 pm
Creativity at its best!
Comment by Creativity at itsbest! — May 10, 2025 @ 11:27 pm