Collected Photo:

আমাদের প্রিয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
ষাটের দশক পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক অগ্নিগর্ভ ও ভুল রাজনৈতিক আন্দোলনের আতুরঘর হয়েছিল। সে সময় ছাত্রদের বিপথে চালিত করে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করেছে, জন্ম দিয়েছে তথাকথিত “মুক্তির দশকের”। ১৯৭০এর ৩০শে ডিসেম্বর আততায়ীদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই খুন হন শিক্ষাবিদ Vice Chancellor অধ্যাপক ডঃ গোপাল সেন । আর এ উগ্রপন্থী ছাত্র আন্দোলনের নামে এ নির্মম হত্যার দায়ী ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়েরঅতি বিপ্লবী ছাত্র সংগঠনের কোন এক সদস্য। শুনেছি কোন এক সরকারী আধিকারিকের পুত্র এ হত্যা করেছিল। রাতারাতি সে বিদেশে চলে যায় । পরবর্তীকালে “আমেরিকা নিপাত যাও” বলা ও “সাম্যবাদের দালালি” করা অনেকেই শুনেছি, – আজ আমেরিকার “গাউনে” আশ্রয় নিয়ে আমেরিকার ডলারের জুস চুষছে। কিন্তু হ্যাঁ, তবুও তারা আমেরিকার বাপবাপান্ত করতে ছাড়ে না।
তখন মেধাবী ও বিপথে চালিত ছাত্রদের অত্যাচারে পদদলিত হয়েছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়। এ আগুনঝড়া সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার জীবনের কয়েকটা বছর কেটেছে । তখন থেকেই সিপিএমের ছাত্র সংগঠন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে নিয়েছিল। নেবে না-ই বা কেন? বেশীরভাগ শিক্ষকই ছিলেন সিপিএমের সদস্য বা সমর্থক। SFI সদস্যদের প্রভাবের আগুনের আঁচ অল্পবিস্তর সকল SFI এর অসমর্থক ছাত্রদের গায়েই লেগেছিল। সে ট্র্যাডিশন আজও চলছে, হয়ত ভবিষ্যতেও চলবে। শুধু দল বদল হবে, আর শিক্ষার হাল হবে শোচনীয়। সরকারী UGCর মানদন্ডে যাদবপুরের স্থান ক্রমশঃ নীচে যাবে। যতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন থাকবে ততদিন শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নত হবে না। গত অর্ধশতক বৎসর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শোষণের শিকার হয়েছে যাদবপুরের মেধাবী তরুণ পড়ুয়ারা। বর্তমান ছাত্রসমাজকে নিজেদের স্বার্থেই এ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্জন করে বেরিয়ে আসতে হবে, তবেই ওরা সকলে স্বাধীনভাবে শিক্ষালাভের সুযোগ পাবে।
রাজনৈতিক দলগুলিকে বুঝতে হবে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে দলীয় “কর্মী নিয়োগের” এক্সচেঞ্জ হিসেবে ব্যবহার করে ছাত্রদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ডুবিয়ে দেবার কোন অধিকার তাদের নেই। শিক্ষার শেষে কেউ যদি কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চায়, সেটা হবে তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হোক। তবেই শিক্ষাক্ষেত্রে অরাজকতা ও নৈরাজ্য বন্ধ হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। শিক্ষাক্ষেত্রের অধিকর্তাদের ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতি হয়ে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে, ছাত্রদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের জন্য, তবেই এ যুদ্ধ আরও সহজ হবে। এ ব্যপারে ছাত্রদের অভিভাবকদের আরও সক্রিয় হয়ে নিজের সন্তানদের বোঝাতে হবে যে তাঁর কষ্টোপার্জিত অর্থ তিনি অধ্যয়নের জন্য দেবেন, ছাত্র ইউনিয়নের জন্য নয়। অভিভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা এ সমস্যা সমাধানে একটি বিশেষ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। আশাকরি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার এসেছে। এ সুযোগ নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির উচিত রাজনৈতিক প্রভাবের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে কেবলমাত্র ছাত্রদের শিক্ষার মান ও পরিবেশের উন্নতি করে অধ্যয়নে মনোনিবেশ করা। কর্মজীবনে সফল হতে হলে নিজের শিক্ষাকে তীক্ষ্ণ থেকে তীক্ষ্ণতর করতে হবে,্না হলে অন্যান্য প্রদেশের ছাত্রদের সাথে প্রতিযোগিতায় হার হবে সুনিশ্চিত। তাই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের অনুরোধ করব – আপনারা রাজনৈতিক দলের ফাঁদে পা না দিয়ে আপনাদের
ছাত্রসংগঠনকে নির্দল ও নিরপেক্ষ রেখে শিক্ষার পরিবেশকে উন্নত করুন, ও নিজের শিক্ষার্জনের প্রতি যত্নবান হোন। আপনার ভবিষ্যতের কথা আপনাকেই ভাবতে হবে, মনে রাখবেন কথায় আছে – “As you sow, so shall you reap.”












Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment