CollectedFrom Biman Ghosh BEC 81, originated Debasis Bandyopadhyay 1981 E&TCলা মার্সেইএজ (La Marseillaise)
ফরাসি জাতীয় সংগীত ‘লা মার্সেইএজ’ লেখা হয়েছিল আজ থেকে দুশো বছরের বেশ আগে, ১৭৯২ সালে। মজা হল গানটির সঙ্গে মার্সেই শহরের নাম জড়িয়ে থাকলেও গানটি আদতে লেখা হয়েছিল স্ত্রাসবুর্গ-এ (তখন এই শহরটি ছিল ফ্রান্সের আওতায়)। গানের পটভূমিটা মনে রাখার মতো।১৭৯২। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছে অস্ট্রিয়া, প্রুসিয়া আর স্পেন। বিপ্লবকে ধ্বংস করে রাজা ষোড়শ লুই-কে সিংহাসনে বসানোর হুমকি দিচ্ছিল তারা। ওই বছর এপ্রিলে ফ্রান্স যুদ্ধ ঘোষণা করলো অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে। স্ত্রাসবুর্গ-এ এই যুদ্ধের খবর এল। এই শহরের দেশপ্রেমিক পৌরপ্রধান ডিট্রিশ যুদ্ধযাত্রী স্বেচ্ছাসেনাদের বললেন লড়াই-এ অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য একটা নতুন গান চাই। পুরনো ধুয়োর বদলে চাই নতুন ধুয়ো। স্বেচ্ছাবাহিনীর এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার ক্লদ জোসেফ রুজে দ্য লিল (Claude Joseph Rouget de Lisle) ঘরে বেহালা নিয়ে বসে রচনা করলেন নতুন গানের কথা ও সুর। পরের দিন পৌরপ্রধানের সামনে গেয়ে শোনালেন সেই নতুন যুদ্ধসঙ্গীত (Chant de Guerre pour l’Armée du Rhin – শাঁ দ্য গ্যের দ্য লার্মে দু রিন – War Song for the Army of the Rhine). পৌরপ্রধান ও সবার এ যুদ্ধসংগীত খুব পছন্দ হল। ২৯ এপ্রিল, রবিবার প্লাস দাম-এর জাতীয় রক্ষীবাহিনীর গায়ক-যন্ত্রীরা পরিবেশন করলেন এই গান।১৭৯২-এই মার্সেই শহরে এক ভোজসভায় গানটি গাওয়া হয়। পরের দিনই তার প্রতিলিপি বিলোনো হয় পারী-র উদ্দেশে মার্সেই-এর যে স্বেচ্ছাসেনা বাহিনীর যাচ্ছিলেন তাঁদের মধ্যে। এর নতুন নাম হয়েছিল “শাঁ দ্য গ্যের ওসার্মে ফ্রঁতিয়ের” (‘Chant de guerre aux armes frontières) পরে এই জনপ্রিয় গানটির নাম হল “শাঁত দে মার্সেইএজ” এবং শেষে হল শুধুই “লা মার্সেইএজ”।রুজে দ্য লিল লিখেছিলেন ছটি স্তবক। পরে লুই দুবোয়া একটি স্তবক লেখেন যা কিনা শিশুদের স্তবক (লা স্ট্রোফ দেজাঁফাঁ)। ফরাসি বিপ্লবকালে এই সাতটি স্তবক বেড়ে কুড়ি স্তবক অবধি পৌঁছেছিল। দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে সবই হারিয়ে যায়। এ গানের প্রথম স্তবকটি আজও ফ্রান্সের জাতীয় সঙ্গীত। ফ্রান্সের আকাশে যতবার দুর্যোগ নেমেছে, গৃহযুদ্ধ-বিপ্লব-প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ – হাজার হাজার মানুষ তাতে লড়েছেন, শহিদ হয়েছেন এই গান গেয়ে। যদিও অনেকবার এই গান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কোন নিষেধাজ্ঞাই শেষ অবধি টিকে থাকেনি।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এই গানের বাংলা তর্জমা করেছিলেন। দুজনেরই প্রথম স্তবকের অনুবাদ দিলাম – সঙ্গে মূল ফরাসি জাতীয় সঙ্গীত।
————————————-
আয়রে আয় দেশের সন্তান
গৌরবের দিন এসেছে
অত্যাচার ঐ দ্যাখ্-গগনে
রক্ত-ধ্বজা তুলেছে।
শুনিছ না ক্ষেত্র মাঝে
ভীষণ সৈন্যের হুঙ্কার !
ওরা আসে বুকের পরে
করিতে স্ত্রীপুত্র সংহার ।
ধর অস্ত্র পৌরজন
কর ব্যূহ সংগঠন
চলো-চলো মোদের ক্ষেত্রে
শত্রু-রক্ত হোক্ সিঞ্চন।
অনুবাদক – জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরফরাসীভূমির সন্তান সবে আয় রে আয় রে আয় !
কীর্তিলাভের শুভ অবসর যায় রে বহিয়া যায়।
অত্যাচারের উদ্যত ধ্বজা রক্তে করিয়া স্নান,
আমাদের ‘পরে বৈর সাধিতে হ’য়েছে অধিষ্ঠান !
শুনিছ কি সবে কি ভীষণ রবে কাঁপায়ে জলস্থল
দম্ভের ভরে গর্জন করে শত্রু-সৈন্য-দল।
তা’রা যে আসিছে কেড়ে নিতে বলে তোমার সকল ধন,
গ্রাসিতে শস্য-ক্ষেত্র নাশিতে পুত্র ও পরিজন !
ধরে হাতিয়ার ফ্রান্সের লোক বাঁধ দল, বাঁধ দল !
চল্ রে চল্ রে চল্ !
ঘৃণ্য শোনিতে হ’বে কি সিক্ত মোদের ক্ষেত্রতল !
অনুবাদক – সত্যেন্দ্রনাথ দত্তমূল ফরাসিতে :
Allons enfants de la patrie,
Le jour de gloire est arrivé !
Contre nous de la tyrannie
L’étendard sanglant est levé ! (bis)
Entendez-vous dans les campagnes,
Mugir ces féroces soldats ?
Ils viennent jusque dans nos bras
Égorger nos fils, nos compagnes!
Refrain (Repeat, chorus)
Aux armes, citoyens !
Formez vos bataillons !
Marchons ! Marchons !
Qu’un sang impur
Abreuve nos sillons !
——————————————
তথ্য সংগ্রহ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার :
১. খোলা চোখে খোলা মনে – রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য, প্রকাশক : ঋতবাক, কলকাতা
২. তীর্থ-সলিল – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, কলকাতা ; সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী
৩. Wikipedia, Internet sites















originated Debasis Bandyopadhyay 1981 E&TC
Comment by dchaudhuri — February 7, 2026 @ 3:29 pm