টাইমস্কোয়ারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল বাঙালীর দুর্গাপূজা
প্রতি বছরের মত এ বছরও মা আগমণীর পদার্পনের প্রত্যাশায় আমেরিকার বিভিন্ন শহর উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে। নিউ ইয়র্ক শহরের টাইম স্কোয়ারএ দুর্গাপূজার ইতিহাস সৃষ্টি হল। আর ইতিহাসের সৃষ্টি করল
“টাইম স্কোয়ার দুর্গোৎসব এসোসিয়েশন। “ এসোসিয়েশনের কর্তা শ্রী শশধর হাওলদার জানালেন – এ দুর্গা পূজার আয়োজনের পুর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন – নিরুপমা সাহা ও গিতালী হাওলাদার। আর এ পূজার আয়োজনে সাহায্য করেছেন সঙ্ঘের বহু সেচ্ছাসেবী সভ্যবৃন্দ।
সত্তর ও আশির দশকের লাস্যময়ী টাইম স্কোয়ার কামনার পসরা সাজিয়ে নিজের খ্যাতি বিস্তার করেছিল সারা পৃথিবীর ভোগের সাগরে। ৯৪ এর মেয়র রুডি জুলিয়ানী নৈতিকতার “বুলডোজার” দিয়ে টাইম স্কোয়ার থেকে সকল পাপের জঞ্জাল দূর করে “টাইম স্কোয়ারকে” সকল ভ্রমনবিলাসীদের কাছে শহরের একটি আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে উপহার দেন। আর ২০২৫ অক্টোবর এর ৩ ও ৪ তারিখে দেবী দূর্গার পাদস্পুর্শে সকল পাপের গ্লানি থেকে মুক্তি পেল টাইম স্কোয়ার। টাইম স্কোয়ারের দুর্গাপূজা একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল বাঙালী ও সনাতনধর্মী মানুষের জন্য। সমগ্র বিশ্বের মিলনস্থল “টাইম স্কোয়ার” হয়ে উঠল দেবী দশপ্রহরণধারিণী দেবী কাত্যায়নীর আরাধনা ক্ষেত্র।
ম্যানহাটনের টাইম স্কোয়ার এ অক্টোবরের ৩ ও ৪ তারিখ হয়ে উঠেছিল তিথি মেনে দুর্গাপূজা ও বাঙালির সংস্কৃতির এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। বিপুল জনরাশি স্বেত, কালো, পীত বা ভারতীয় সকলেই এ অনুষ্ঠানকে একটি “সর্বজন মিলনের” ত্রিবেণীতে পরিণত করেন। “নৃত্যাঞ্জলীর” নৃত্য পরিবেশন পূজাঙ্গনকে রামধনু রঙ্গে আলোকিত করে দেয়। লোপামুদ্রা ও জয় সরকার তাঁদের সুরেলা কন্ঠে সকলের মনোরঞ্জন করেন। ভারতীয় বিদ্যাভবন “গরবা” নৃত্য পরিবেশন করেন। বাঙালীর ঐতিয্যবাহী বিভিন্ন রীতি ও স্ত্রী আচার রূপ দেখে মনে হয়েছিল আমরা যেন কলকাতার যে কোন ঐতিয্যবাহী পরিবারের পূজায় অংশগ্রহণ করছি। রবিবারে
“রামায়ন ব্যালে” ও নৃত্যাঞ্জলীর “মহিষাসুরমর্দিনী” সকলের প্রশংসা পেয়েছে। দেয়াশিনি রায়ের সঙ্গীতের সুর তাঁর প্রতিভার সাক্ষর রেখেছে।
প্রতিমা শিল্পী হলেন কুমারটুলীর প্রদীপ রুদ্র পাল । আর এ পূজা অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেছেন শ্রী কেশব চট্টোপাধ্যায়।
দেশী বিদেশী অতিথির উপস্থিতি বাঙালীর ঐতিয্য দুর্গাপূজাকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে। আর এ জন্যই “২০২১ সালের ডিসেম্বরে ইউনেস্কো ‘কলকাতার দুর্গাপূজা’কে মানবজাতির অপ্রচলিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (Intangible Cultural Heritage) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতির ফলে দুর্গাপূজা একটি বৈশ্বিক মর্যাদা লাভ করেছে এবং এতে অংশগ্রহণকারী শিল্পী, কারিগর ও সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইউনেস্কো এই সিদ্ধান্তকে ‘Sarbojonin’ বা ‘সবার জন্য’ মনোভাবের একটি চমৎকার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ” (উদ্ধৃতি)।















Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment