তুলসীগাছ
বাইরে বরফে ঘেরা
মাঠের সব ঘাস মরে গেছে
ঠান্ডায়|
গত দু’দিনের তুষারপাতে
বরফের মাঠ চারিদিকে –
হাড় হিম করা ঠান্ডা।
বারান্দায় ছিল আমাদের দুটি তুলসী গাছ
একটাই টবে – আজ মিলেমিশে একটাই গাছ,
শুকিয়ে যাচ্ছিল।
এক বন্ধুর উপদেশে
ঘরের ভেতর রেখেছি গত মাস দুই,
রোজ সকালে জল দিই।
ঘরের ভেতরের কৃত্রিম হিটারে
আর কয়েক ফোঁটা জলে
কচি গাছ দুটি বেঁচে আছে
কচি সবুজ হাসি –
কয়েক ফোঁটা জল যখন
স্প্রে করে দিই
কচি পাতা কটা নুয়ে যায়,
স্প্রে শেষ হতেই আবার পুরোনো অবস্থায়, সতেজ
সারে জল দিতে একটু ভিজে যায়।
এই সামান্য ক’ফোঁটা জলেই
কি অনাবিল আনন্দ!
বিন্দু কয়েক জল ওরা ভাগ করে নেয়
শিরায়-উপশিরায়, পাতায়-কান্ডে-গোড়ায়
এতেই ওরা বেঁচে থাকবে – কোনো চাহিদা নেই।
ওদের বাঁচার আনন্দ অনুভব করলাম
তবে ঔদ্ধত্য নেই।
ওদের কৃতজ্ঞতা বোধ অনুভব করলাম
তবে দুর্বলতা নেই।
মাথা নিচু করার বল আছে
তবে মরার ভয় নেই।
বারান্দায় থাকলে
একবারও ভেতরে থাকার আর্জি করত না,
ঠান্ডায় জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে মরে গেলেও
বাঁচার চেষ্টা করলেও
পায়ে পড়ত না।
ঘরের কাঁচ দিয়ে বারান্দায়
মরে যেতে দেখলেও
আমাকে অভিশাপ দিত না।
এ কার কোনো সৃষ্টি!
সব প্রাণীর উপরে এ এক প্রাণ
এ তুলসী কোনো দেবতা নয়
এক নাস্তিকের চোখে উন্নত এক প্রাণ।
অল্পে তুষ্ট,
শান্ত, তৃপ্ত, ক্ষমাশীল, জ্ঞানী
অন্নুদ্ধত, আধ্যাত্মিক শিক্ষক।
একফোঁটা জলে সন্তানের স্পন্দন
বৃদ্ধ মা-বাবার শান্তি, তৃপ্তি – না
তার থেকেও উন্নত এক চেতনা।
সন্তান কাদেঁ, মা-বাবাও রাগে, অভিমান করে
এ এক নতুন অনুভূতির জন্ম দেয়
ক্ষুদ্র অথচ বিশাল ব্রহ্মের আভাস দেয়।
Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment