এই ‘সময়’ ব্যাটা, বড়ই ঠ্যাটা,
বয়েই চলে নিজের মতিগতিতে,
না ধীরে, না দ্রুত পদে,
অনড়-অটল একই রকম রীতিতে;
সৌরজগতের এক অমোঘ নিয়ম,
পৃথিবী–সূর্যের পারস্পরিক আবর্তে,
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের পরিধিতে,
অহর্নিষি সুনির্দিষ্ট একই বেগেতে!
এই সময়টাকে নিয়েই তো
জীবনে যত রকম সমস্যা-সংকট,
সেই জন্ম থেকে মৃত্যুর শেষ সীমায়,
এতগুলো দিন-মাস-বছর,
সকাল থেকে দুপুর-বিকেল-সন্ধ্যা-রাত্রি পেরিয়ে
আবার সেই সকাল,
কেমন করে যে কাটায় মানুষ,
এই বিশাল জীবন ব্যাপি সময় কাল!
আসল কথা,ভায়া, সময় তো ঠিক কেটেই যাবে
নিজের সঠিক বেগেতে,
তুমি আমি যেভাবেই হোক,
কাটাই না কেন নিজের নিজের মর্জিতে –
হুঁশ করে আনন্দে-সুখে-হাসিতে,
বা দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রনায় মন্থর গতিতে,
আর বেশীর ভাগই
গতানুগতিক জীবনের একঘেয়েমির রোগেতে!
জীবনভোর কাটাই সময়
আমরা সবাই নিজের নিজের গন্ডিতে,
সময়ের ঘরির কাঁটার মত
ঘুরে ঘুরে আপন আপন ছন্দতে;
আদি আবাহমান কালের স্রোতে,
এই সময়েরই ভেলায় চেপে,
কখন যেন হঠাৎ করেই পৌছে যাই
জীবনের এই বেলাশেষে!
বেলাশেষের রীতিই এমন,
সময় যেন আর কাটেনা হায়,
কি করি, কি করি, কি করি…..
ভেবে ভেবেই বেলা যে গড়িয়ে যায়;
জানি তো ঠিক, কাজ করলে,
সংসারে কাজের তো নেই শেষ,
আর কাজ করলে,
সময়ের তো উড়তে লাগে এক নিমেষ!
অনেক কাজের পরে এখন,
বসে বসে স্বপ্ন দেখাই বড় কাজ,
তাই স্বপ্ন দেখেই কাটাই সময়,
অন্য কাজের নেইতো মেজাজ;
স্বপ্ন দেখি, সেই পৃথিবীর,
সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা ধরা,
মানুষের হাহাকার-মরামারি-যুদ্ধবিহীন,
শুধু সুখ-শান্তিতে ভরা !
স্বপ্ন দেখ,আর যাই কর না,
সময়ের সঙ্গ যেন ছেড়ো না,
এই সময়ের মত ভালো ওষুধ
আর তো কিছুই নেই যে জানা,
যতই থাকুক দুঃখ তোমার,
দেয় ভুলিয়ে ধীরে ধীরে,
সারিয়ে তোলে যত ব্যথা,
মনের ক্ষত সব ভরিয়ে!
এমনি করেই কাটে সময়
জন্ম থেকে মৃত্যুর ধারাবাহিকতায়,
হিংসা-দ্বেষ-কলহ-রেশারেশি-হানাহানি-কষ্ট-যন্ত্রনায়,
সুখ-দুঃখ-হাসি-কান্না-আনন্দ-প্রেম-ভালবাসা-স্বপ্ন দেখায়,
সব শেষে জীবন নদী গিয়ে মেশে
অনন্ত সমুদ্রের অসীমতায়!!
কমল রঞ্জন আচার্য্য
২৩শে মার্চ ২০২৩
Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment