আমরা সবাই সব কথাই কি সোজা করে,
সহজ করে বলতে পারি সব সময় ?
ব্যতিক্রমে কখনো উল্টোটাই যে হয় সহজ,
আর সেটাকেই সোজা ভেবে করি যে ব্যবহার!
বাড়ন্ত বয়সের ছেলে দৌড়ে এসে বলে মাকে,
“মা, দেখও আমার জুতোটা ছোট হয়ে গেছে,
অথবা জামাটা বড্ড টাইট টাইট লাগছে!”
আমরা জানি, সময়ের সাথে জামা জুতো হয় না তো ছোট,
যে ওটা পড়ে, সে বয়সের সাথে হয়ে যে যায় বড়,
আপেক্ষিক ভাবে তাই পরিধেয়কেই মনে হয় ছোট;
তাই হয়তবা সহজ করে বোঝার জন্য
উল্টো করেই বলি “জুতো ছোট হয়ে গেছে!”
রবিবারের সকালে জমাটি জলখাবারের পর,
অনেকেই বলি “যাই, চুলটা কেটে আসি!”
আচ্ছা বল, আমি কি নাপিত –
অন্য কারো চুল কাটতে যাব?
আমি তো যাব চুল কাটাতে / ছাঁটাতে,
আর সেই সঙ্গে একটু চাম্পি-মালিশ!
কিন্তু চিরকালই শুনে আসছি “যাই, চুলটা কেটে আসি!”
উল্টো করেই বলেই বোধহয় বুঝতে হয় সহজ!
আমরা সবাই জানি আমাদের পৃথিবীটা,
নিজের অক্ষরেখায় প্রতিনিয়ত ঘুরছে,
আবার ঘুরছে সূর্যের চারদিকে নিজের কক্ষপথে,
যদিও সূর্য আপেক্ষিকভাবে স্থির নিজেরই জায়গাতে!
মহাবিশ্বের এই অদ্ভুত পরিকল্পনাতেই,
রোজ হয় দিন-রাত্রি, ঋতুর হয় পরিবর্তন!
যদিও সূর্য ঘোরে না, তবু আমরা বলেই থাকি,
সকালে সূর্য উঠছে, সন্ধ্যায় সূর্য ডুবছে!
এরকম আরো অনেক কথাই আছে
আমাদের বাংলা ভাষার বিপুল ভান্ডারে,
যা আমরা উল্টো করেই বলি সর্বদা,
সহজ করে বোঝার জন্য হয়তো বা!
কোনটা সোজা, কোনটা উল্টো,
কি হবে তার বিচার করে চুলচেরা,
বুঝতে পারবে যেটা সবাই অতি সহজেই,
বলবো না হয় সেটাই একটু উল্টো করেই!
১লা মে, ২০২১
Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment