শিবশঙ্কর পাল
কখনও নিজেকে রেখেছো
ওখানে—
ফাল পিচ রাস্তার হকারের পায়ে
বয়লারে কাজ করা শ্রমিকের গায়ে
কখনও সেঁকেছো আগুন—
রুটিভাঁটির কারাগারে—
কখনও থেকেছো লাঙল-মাঠে ঠাঁই
যেখানে রোদ পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই
ডেলিভারি বয়ের ঘাম-হেলমেডে
সবজি বিক্রেতার ভিজে গেঞ্জিতে—
থেকেছো কখনও বা
রেখে দেখেছো নিজেকে কখনও—
পাথর খাদানে ইঁট ভাঁটায়
যেখানে জল এমনিই ফুটে যায়
তাও তো ছাতা পাও তুমি
মুটেদের থাকে মাথা বোঝা
গরম কাঁচের ট্রাক ড্রাইভার
রাজমিস্ত্রি ছাদের উপরে
কামিন রাইস মিলে
কেও বা অ্যালুমিনিয়াম গলায়
তোমার বোতলে ঠাণ্ডা জল
হাত মুখ ধোও ঘনঘন
কিম্বা গ্লুকোজ
সাদা পোশাকে
সাদা এসিতে কখনও—
কখনও দেখেছো ঝোড়ো কাক
দুপুর দুটোর ৪৫°
পাতার দেহবসান অতর্কিতে
সাদা মুখ ঘাসের আর্তনাদ
ঝড়ে যাওয়া বেরঙিন প্রজাপতি ডানা—
মাটির গর্তে ওঠে ভাঁপ
কিমি চার যাই গৃহবধু
জলের কৃপা পেতে
হেঁটেছ তার সাথে কোনওদিন
উষ্ণ কাঁকড়-পথে—
শশা তরমুজ টিফিন বক্সে তোমার
ওয়াইপার পেপার
গাড়ির শীতল কাঁচে
হয়তো দেখেছ এসব
অনুভূত হয়েছো কখনও কি
দূরন্ত গ্রীষ্মের চাবুকে
কিভাবে দেহ ওঠে কেঁপে কেঁপে—
বুড়ি তবু ঘুঁটে দেয় পাঁচিলে
কেও কেও কয়লা কোড়ায়
মাঝি টানে হাল
ভ্যানচালক পায়ে দেয় চাপ
মাটির উনুনে বাঁশপাতা গোঁজে
কিশোরী-বধুর কচি-হাত—
কোনও কোনও কবি এসব নিয়ে লেখে কবিতা
সন্ধ্যার আমেজী হাওয়ায়
মাঠে না নেমে মাঠের গান গায় কলমে
পায়ের তলার ফোস্কা নিয়ে লিখে পাতা পাতা
শ্রমজীবিদের খতিয়ান অক্ষরে অক্ষরে
হায় কবি—
মিশেছো, নেমেছো ওদের সাথে পথে-মাঠে-কাজে কখনও
বরং
কোলাপুরি চপ্পল পায়ে
কোকাকোলা দু-চুমুক দিয়ে
কোনও সৈকতের তীরে
লিখে দিলে গরম গরম কথা
যা ছাপে গরম হয়ে ওঠা প্রিণ্টারের কোনও এক শ্রমিকের হাত
যার ঘামে অত্যন্ত তীক্ততা
আমাদের প্রতি—
Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment