*তুমিই বল*
মনে কর আমরা সবাই, জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই,
মেনে চলতাম গুরুজনদের দেওয়া অনুশাসন সবই,
কতশত জ্ঞানীগুণীদের যতসব উপদেশ বাণী,
“সদা সত্য কথা বলিবে, সৎ পথে চলিবে” আরও সব কত কি,
নিশ্চ্য় ভুলে যাওনি ছোটবেলার সেইসব জ্ঞান-প্রবচন,
যদি সারাজীবন অক্ষরে অক্ষরে করতাম সবই পালন,
কোন কারনেই হতে দিতাম না তাদের কোন অন্যথা,
তুমি বলতো, কেমন হতো আমাদের সেই পৃথিবীটা!
আমরা সবাই বলতাম সত্যি কথা,চলতাম সদা সৎপথেই,
বাঁধা থাকতাম সব অনুশাসন আর নিয়মকানুনেই;
করতাম সেই সব কাজ যাতে অন্যদের হত না কোন ক্ষতি,
হত শুধু সবাইয়ের ভালো, পরস্পরের উন্নতি !
একজন আরেকজনকে ভুল বুঝিয়ে, মিথ্যা কথা বলে,
নিজের স্বার্থসিদ্ধি করার মানসিকতা যেত সবাই ভুলে;
পৃথিবীতে তবে না থাকতো কোন মিথ্যাচার, ভ্রষ্টাচার,
না থাকতো চোর, ঠকবাজ, প্রতারক, জোচ্চর;
কত পেশা হত উদ্বৃত্ত,কত লোগ হত বেকার,
পুলিশ, সেনাবাহিনী, জজ, উকিল, ব্যারিষ্টার;
বন্ধ হয়ে যেত সব অস্ত্রশত্র তৈরির কারখানা,
আর তারই সঙ্গে শেষ হত এদের বেচা-কেনা;
বন্ধ হত সব অপকর্ম, অপরাধের অনুসন্ধান,
মিথ্যাকে সত্য, সত্যকে মিথ্যা করার সব প্রতিষ্ঠান!
এই রকম হলে পৃথিবীটা হত কত শান্তিময়,
কিন্তু জানি সেরকম তো কখনই হবার নয়;
বেশীর ভাগই আমরা বলবনা সত্যি কথা, চলবোনা সৎপথে,
পারবনা আমরা বেড়োতে ষটরিপুর কবল থেকে;
তাই আমাদের পৃথিবীটা বাস্তবে সেইভাবেই চলে,
চলছে যেমন করে বিগত শত শত বর্ষ ধরে;
তবু এরই মধ্যে আছে সৎপথী মানুষ কয়েকজন,
যাদের প্রতিনিয়ত চেষ্টায় পৃথিবীটা আজও সুন্দর, মনোরম!
তুমি বলতো, তুমিও কি তাদের মধ্যে একজন? !!
কমল রঞ্জন আচার্য্য
২৭শে নভেম্বর, ২০২০
*উত্তরাধিকারীদের জন্য*
আসার সময় ছিল নাতো আমার সাথে কিছুই,
যাবার বেলাও সঙ্গে করে নিয়ে যাবোনা কিছুই;
দিয়েই যাব উজার করে যা আছে মোর প্রিয়,
প্রার্থনা করি তোমরা সবাই প্রানভরে তায় নিও।
দিয়ে যাব, মুঠোয় ভোরে রাত-জোনাকির আলো,
যদি পারো দূর কোরো তায় মনের যত কালো;
উঠিয়ে রেখো যত্ন করে মনের মনি কোঠায়,
সেই দেখাবে দুঃসময়ে ঠিক পথটা কোথায়।
দিয়ে যাব, ভোরের বেলার একরাশ শিশির ভেজা হাওয়া,
বুক ভরে তায় নিঃশ্বাস নিও, সাবধানে রেখো ভায়া;
এর পরে আর পাও বা না পাও, বলতে কি কেউ পারে,
যেমনভাবে মেতে আছি আমরা সবাই প্রকৃতির সংহারে।
দিয়ে যাব, গোধূলির মরুভূমির নিশ্চুপ নৈঃশব্দতা,
তার গহনে শুনতে পাবে শুধু অন্তরেরই কথা;
নিজের সাথে করবে বসে নিজেরই বোঝাপড়া,
কঠিন সে কাজ, হয়না গভীর নিঃশব্দতা ছাড়া।
দিয়ে যাব, বিস্তৃন্য প্রাঙ্গনে অমাবস্যার ঘন অন্ধকার,
যার গভীরে পাবে সুযোগ নিজেকে হারাবার;
যদি চাও দেখতে-শুনতে নিজেরই অন্তর আত্মা,
সঙ্গে নিও জোনাকির আলো আর মরুভূমির নিঃশব্দতা।
রেখে যাব, সম্পর্কের কিছু অটুট বন্ধনের জ্ঞান,
যার সম্বলে পেরিয়ে এলাম জীবনের এতগুলো সোপান;
এমনি করেই তুমিও বেঁধো তোমার সম্পর্কের ডোর,
দেখো যেন ভুল করে না লাগে ফসকা গেড়োর জোড়।
রেখে যাব, আমার যত পাগলামির আলেয়া,
যার পেছনে সারা জীবন ছুটে ছুটে আমি হয়েছি হল্লা ;
গান, বাজনা, গল্প, কবিতা, খেলা, প্রেম, আরও কত কি,
যদি পারো তুমিও হয়ো কিছুতে মসগুল, করো পাগলামি।
রেখে যাব, অনেক অনেক স্বপ্নের ঝাঁপি,
খুলে দেখো একে একে যদি থাকে কিছু বাকি;
ভরে নিও নিজের মত নতুন স্বপ্নের রাশি,
জীবন চলার পথের তারাই হবে তোমার সাথী।
এইতো আমার ধন, সম্পদ, অলংকার, ঐশ্বর্য্য,
রেখে গেলাম উত্তরিকার সুত্রে সবই তোমাদের জন্য;
তোমরা এবার ভাবো বসে কি করবে এদের নিয়ে,
আমার কাজতো শেষ হল এসবই তোমাদের দিয়ে!
কমল রঞ্জন আচার্য্য
৯ই জানুয়ারি, ২০২১
Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment