জীবনভর বহু স্বপ্নের তরী বেয়ে, অবশেষে,
নতুন এক স্বপ্নের ঝাঁপি খুলে এর বেড়িয়ে,
এক চিরকুট – “এবার খোঁজ নিজেকে”!
কোথায় কি করে খুঁজি বলোতো এই “নিজেকে”?
এতো আর নাতির সাথে লুকোচুরি খেলা নয়,
গিন্নির হারিয়ে যাওয়া চুলের ক্লিপও নয়,
নয় ভুলোমনে কোথায় যেন রেখে দেওয়া চশমার খাপ,
এ যে এক অদৃশ্য সত্ত্বা, কোথায় খুঁজি তায়?
নির্জন সৈকতে সূর্যোদয়ের প্রথম আভায়,
দূর পাহাড়ের পিছে সূর্যাস্তের শেষ রস্মিতে,
আকাশের নীলিমায় ভেসে যাওয়া শরৎ মেঘে,
নীল দীঘির ঘাটে চুপচাপ বসে শ্রাবণ সন্ধ্যায়?
দিগন্ত বিস্তৃত শষ্যক্ষেতের শ্যামলীমায়,
হাওয়ার দোলায় সোনালী ধানের শিষে,
মহুয়ার গন্ধে, শাল-সেগুনের বনের মর্মরে,
বট-অশ্বথ্যের শীতল ছায়ায়, ফুলের মেলায়?
বাবা-মা-ভাই-বোন-স্ত্রী-পুত্র-কন্যা-নাতি আর
সব আপনজনদের সম্পর্কের ক্রমমান আবর্তে,
ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থনে,
নিজের পড়ার ঘরের একান্ত নির্জনে?
এমনিভাবেই কোথায় খুঁজি, কোথায় খুঁজি,
আকাশ পাতাল ভেবে, চিন্তায় যখন আছি ডুবে,
হঠাৎ করে কে যেন বলে চুপিচুপি কানে,
“খুলে দেখ ঝাঁপি, যাবি উত্তর পেয়ে”!
আবার খুলি স্বপ্নের ঝাঁপি খুবই সন্তর্পণে,
দেখি সেই চিরকুট পড়ে আছে আনমনে,
পেছনে যার লেখা বড় বড় অক্ষরে
” *খোঁজ নিজেরই মধ্যে* *নিজেকে”!!!*
Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment