আজ বলবো
সেই বীর পুরুষদের কথা
যাদের আড্ডা চায়ের দোকানে বা চৌ-রাস্তার ঠ্যাকে
যারা শিস্ দেয় আমাকে দেখে।
যারা সুযোগ বুঝে হাত টানে স্কুল ছাত্রীর।
যারা টন্ট্ মারে পাড়ার মাঝ-বয়সী বৌদিকে।
যারা শরীর স্পর্শ করতে চায় মা-বয়সী কাকিমার।
হ্যাঁ, তাদেরই বলছি—
আজ যে ঠোঁট দিয়ে শিস্ দিচ্ছো,
সেই ঠোঁট দিয়ে একদিন হামি দিয়েছ তোমার বোনের গালে।
যে হাত ধরে ওই নিস্পাপ যুবতীকে টেনেছো
সেই হাতেই হাটতে শিখিয়েছো নিজের মেয়েকে কখনও।
যে মুখ দিয়ে টন্ট্ করছ,
সেই মুখ দিয়ে বাবা বলতে শিখিয়েছ মেয়েকে।
যে হাত দিয়ে আজ কাকিমার শরীর স্পর্শ করলে
সেই হাত দিয়ে কোলে তুলে নিয়েছে কাকিমার মেয়েকে।
যে হাত দিয়ে স্তন করেছ আজ ক্ষতবিক্ষত—
সেই স্তন পান করে তুমি আজ দানবে পরিণত হয়েছ।
যে যোনি পথে দিয়েছ তুমি পাশব আঘাত
সেই যোনিপথ পেরিয়ে তোমার মেয়েকে পেয়েছ কোলে।
যে শাড়ীর আঁচল টেনে তাকে নগ্ন করেছ,
সেই শাড়ির আঁচলেই মাথা মুছিয়েছে তোমার মা।
আজ যে বোনটি তোমার ভয়ে বেড়োয় না বাইরে,
ওরম বোন বড়ো হচ্ছে তোমারও ঘরে।
যে বৌদি আজ তোমার জন্য মুখ রাখে ঢেকে,
সেই দিদিও আছে তোমার ঘরে।
যে মেয়েটি আজ ট্রমাই আছে
ওরম ট্রমা তোমার মেয়েও পেতে পারে।
কলেজের যে মেয়েটি ভার্জিনিটি হারিয়েছে,
সেরম বোন কলেজ যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে তোমারও ঘরে।
হে দানব, হে মানুষ খেকো পিশাচ,
যে হাত দিয়ে ওড়না টেনেছিস
সেই হাত দিয়ে ওড়না টেনে দে বোনের বুকে।
যে হাত দিয়ে আঁচল টেনেছিস,
সেই আঁচল টেনে দে স্ত্রী-কাকিমার আব্রুতে।
নত নত, নত কর মাথা।
যে হাতে ফুলের মতো মেয়েটাকে স্পর্শ করেছিলি,
সেই স্পর্শে আন বাবা-কাকার ছোঁয়া৷
হে বীর্যবান পুরুষ চিন্তা বদলা। বদলা দেখার দৃষ্টি।
কাল তোর মেয়ে যাবে স্কুল, বোন কলেজ, কাকিমা বাজার।
তোর স্ত্রীও আসবে পাড়ার মোড়ে।
যা আজ হাত জোড় কর—
সমাজ-শক্তির কাছে চেয়ে নে ক্ষমা।
বল— ক্ষমস্য পরমেশ্বরী।
চায়ের গরমে নষ্ট কর গরম।
ঠেকের বাঁকে চোখ কর সোজা।
জোরালো কবিতা
Comment by dchaudhuri — July 8, 2024 @ 10:00 pm
A very strong message indeed.
Comment by Amit Chatterjee — July 22, 2024 @ 3:28 pm