আমরা যারা বড়দের (বুড়োদের) দল,
পেরিয়ে এসেছি জীবনের অনেকটাই পথ,
কভেটের দেওয়া এই একান্ত অবসরে,
করছি কিছু অন্বেষণ, আত্মবিশ্লেষন!
আমাদের কাঁধে যে ছিল দায়িত্ব কঠিন,
‘মানুষ’ করতে হবে তোমাদের, হে নবীন,
আমাদের প্রজন্মের চেয়ে আরও ভালো,
ধীর, স্থির, শান্ত, কর্মঠ ও কর্তব্যশীল!
মানুষের মত মানুষ করবো বলে,ওরে নবীন,
কি দিয়েছি তোমাদের, কি পারিনি দিতে,
কি সব নিয়েছি কেড়ে নিজেদের অজান্তে,
তারই হিসাব করি আজ জীবনের দিনান্তে!
দিতে পারিনি নীল আকাশ, মুক্ত বাতাস,
গাছের ছায়া আর যা কিছু নির্মল;
দিয়েছি শুধু গাড়ীর ধোঁয়া, দমবন্ধ হাওয়া,
দূষিত পরিবেশ আর বোতলের জল!
নিয়েছি কেড়ে খেলার মাঠ, ঘুড়ি ওড়ানোর ছাদ,
কাগজের নৌকো আর তোমাদের শৈশব;
অতি সহজেই ধরিয়ে দিয়েছি হাতে মোবাইল,
ভিডিও গেম, প্লে স্টেশন, টিভি আর রিমোট!
পারিনি দিতে মায়ের হাতের তৈরী খাবার,
তোমরা পেলে ম্যাগি আর প্যাকেজের আহার্য,
সপ্তাহান্তে রেস্টুরেন্ট, মল, রাস্তার আহার,
নয়তো আছে সহজ উপায় – Swiggy আর Zomato!
শিক্ষাকে নিয়ে করেছি ব্যবসা, ভাষা নিয়ে রাজনীতি,
চাকরির নামে দিয়েছি দাসত্য, কাজই অহঃর্নিশি;
প্রগতির নব সংজ্ঞায় ধ্বংস করেছি সব নৈতিকতা,
সম্পর্ক হয়েছে ঠুনকো, ভঙ্গুর, শুধুই বিচ্ছিন্নতা!
আমাদের বুড়ো বয়সের যত সব অসুস্থতা,
মধুমেয়, রক্তচাপ, হৃদরোগ আরও যত ব্যথা,
করিনি কোন কৃপণতা এই সবকিছুই দিতে,
অল্প বয়সেই তোমরাও তাই নিয়েছো মাথা পেতে!
এ সব করেছি আমারা শুধু নিজেদের স্বার্থেই,
মেটাতে অনন্ত চাহিদা – আরও চাই, আরও চাই,
অখুশী-অতৃপ্তির ঢেউয়ে ভেসে ভেসে দিনরাত্রি,
তোমাদের মধ্যেও দিয়েছি এই বিষাক্ত মনোবৃত্তি!
ওরে আমার নব্য যুগের নির্ভীক অনুবর্তী,
করি আজ তোমাদের কাছে গোপনে এক স্বীকারোক্তি,
আমরা যারা গত প্রজন্মের বড়দের (বুড়োদের) দল,
চেষ্টা করেও করতে পারিনি আমাদের দ্বায়িত্ব পালন!
‘মানুষ’ তোমারা হলে কতটা, তোমরাই কর বিচার,
আমারাতো রেখে গেলাম দু্ঃস্থ-পীড়িত এক সমাজ;
পার যদি এনো পরিবর্তন, গোড়ো সুন্দর পৃথিবী,
আর করো ক্ষমা এই বুড়োদের এটাই শুধু মিনতি!!!
Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment