ছোট-বড়, উঁচু-নীচ, ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক….
সব বিশেষন আর গুনবাচক সজ্ঞাইতো নিছক আপেক্ষিক!
এদের নিয়েই আমাদের সভ্যতার যতসব খেল,
তাই বলে যারা চিহ্নিত নীচু স্তরে, তারা করোনা আক্ষেপ!
তুমি বল, আমি বেঁটে আর তুমি হলে লম্বা,
আমি যদি বলি তুমি লম্বাদের মধ্যে বেঁটে,
আর আমি বেঁটেদের মধ্যে লম্বা,
তবে কি দাঁড়ায়, তুমি বেঁটে, আমি লম্বা!
তুমি বল, আমি কালো আর তুমি হলে ফর্সা,
আমি যদি বলি তুমি ফর্সাদের মধ্যে কালো,
আর আমি কালোদের মধ্যে ফর্সা,
তবে কি দাঁড়ায়, তুমি কালো, আমি ফর্সা!
তুমি নিজেকে জাহির কর বিরাট ক্ষমতাশীল বলে,
তোমার অহংকার, অহমিকা, আভিজাত্যের গর্বে,
পরেনা পা মাটিতে, দেখো আমাদের সবাইকে নীচু চোখে,
সুযোগ পেলেই পায়ে পিষে এগিয়ে চলো নিজের স্বার্থে!
তুমি দেখেছো কি ভেবে কোনদিন,
তোমার চেয়েও আছে ক্ষমতাবান কেউ না কেউ,
যে তোমাকেও এমনি করেই পিষে মেরে এগিয়ে যেতে পারে,
নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করে হতে আরও ক্ষমতাশীল!
প্রত্যেকটি মানুষ,পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, গাছপালা, ফুল-ফল…
ভৌত বিশ্বের নিয়ন্ত্রনকারী শক্তির সৃজনশীলতার এক একটি বিস্ময়;
প্রকৃতির অন্তহীন পরিকল্পনায়, বিরামহীন সৃষ্টির খেলায়,
প্রত্যেকটি সৃজনকর্মই সর্বোত্তম আপন আপন মহিমায়!
আমরা মানুষ পারিনিতো পৌঁছতে ঐ সৃজনশক্তির ধারেকাছে,
তাই আমাদের ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে করেছি সব সৃষ্টিকর্মের শ্রেনীভেদ,
লাগিয়েছি তাতে ভালো-মন্দ বিশেষনের তকমা,
খেলছি সভ্যতার নামে অদ্ধূত এই ভেদাভেদের খেলা!!
কমল রঞ্জন আচার্য্য
২৪শে মার্চ, ২০২১
Comments »
No comments yet.
RSS feed for comments on this post. TrackBack URL
Leave a comment